Thinking

শেষ ঠিকানার খোঁজে 


মুহাম্মদ রেজাউল করিম
Saturday, 27 June 2020 04:28
NewsRoom



ঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে দিনগুলো। সময় যাচ্ছে বেহিসাবি খরচায়। অনাগত ভবিষ্যতের নিশ্চিত দূর্ভাবনা গুলো বৃশ্চিক দংশন যন্ত্রণায় বিষিয়ে তুলছে হৃদয় গভীরে, বিবশ হয়ে আসছে প্রাণের স্পন্দনগতি। এই দুর্বিষহ ব্যথা ধমনি-শিরা-উপশিরা দিয়ে ছুটে চলছে প্রতিটি কোষে, আলোড়িত করছে প্রতিটি নিউরন, যেন উন্মত্ত হয়ে ছুটে পালাতে চাই এই জগতের সব বিবশতা থেকে। চার দেয়ালের ভেতরের পৃথিবীটা ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। অবরুদ্ধ ঘুমোট আবহাওয়ার সাথে একাত্বতা ঘোষণা করে হৃদয়পুরে বিরাজ করছে শুধু শ্রান্তি আর আবসাদ। নিঃশ্বাস নেয়াটাই যেন বড় দায় হয়ে ঠেকছে। নিঃশ্বাসের সাথে কতো অজানা ভয় মিশে যায় শরীরের প্রতিটি রক্ত বিন্দুতে। প্রতিটি নিঃশ্বাস যেন নিয়ে যায় মৃত্যুর আরেকটু কাছাকাছি। হতাশার অদৃশ্য সৈন্য রুধিরের বেগে পৌঁছে যায় প্রতিটি কোষে কোষে, অজানা আতঙ্কে উত্তেজিত করে তুলে প্রতিটি নিউরন। তবুও বেঁচে থাকতে হয় অলীক স্বপ্ন দেখে। শ্রাবণের ঘোর বর্ষায় দিগন্তপ্রসারী কালো মেঘের আড়ালে এক চিলতে সূর্যরশ্মি দেখার অপেক্ষায়। তীব্র বর্ষণমন্দ্ৰিত অন্ধকারের শেষে রংধনুর আবিরে হৃদয়কে রাঙানোর আশায়। তপ্ত দুপুরে উন্মুক্ত প্রান্তরে কোন এক পথহারা বিচ্ছিন্ন চিলের আওয়াজ যেমন হাহাকার তুলে চারপাশে, তেমনি হৃদয় গভীরে কিসের যেন একটা হাহাকারে গুমড়ে কেঁদে উঠতে চাই। হৃদয় গভীরের এই করুণ নিস্তব্ধতায় যেন কোন আদি অচ্ছুৎ ঠিকানার প্রতিধ্বনি বেজে ওঠে ক্ষণে ক্ষণে। 

তবুও বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের উন্মুক্ত মঞ্চে মহাসমারোহে চলছে জীবনের কত অভিনয়, কত নাটক। এই নাট্যমঞ্চে আমরা সবাই অভিনেতা, একেক মঞ্চে একেক চরিত্র মঞ্চস্থ করতেই ব্যস্ত। প্রতিটি সত্তার মাঝে চলে কত শত চরিত্রের প্রতিফলন, দোর্দণ্ডপ্রতাপে করি নিজের আত্মশ্লাঘা উদগীরণ। কখনো করি ভালোবাসার অভিনয়, কখনো প্রাণহীন প্রণয়। আমরা সবাই অভিনেতা, আমরাই আমাদের দর্শক, আমারাই আমাদের সমালোচক। একে অপরের অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়ে নিজেকে ভুলে যাই আবার কখনো অপ্রাসঙ্গিক সমালোচনা করে নিজেই সেই চরিত্র অভিনয় করে যাই। প্রাপ্তি শুধু তোষামোদের হাততালি পাওয়া, নয়তো সমালোচকের তিক্ত অশ্রাব্য ব্যঞ্জনা। কত আয়োজন করে, রং বেরংয়ের সাঁজে সাজিয়েছি আমাদের জীবনকে। জীবন বৈচিত্রের রূপ রসে প্রমত্ত হয়ে প্রতিনিয়ত মাতিয়ে রাখছি চারপাশ। দিনশেষে সবই নবডঙ্কা, নিরেট মিথ্যা। 

একমাত্র নির্মল সত্য হলো মৃত্যু। জীবনের প্রতীপে মৃত্যুই যেন চিরন্তন সত্য। এ এক অবধারিত ক্ষণ, আমরাই তার প্রহর গুনে তারই কাছে এগিয়ে যাচ্ছি নিকট থেকে সন্নিকটে। প্রতি নিঃশ্বাসের গতিতে পৌঁছে যাচ্ছি চির বাস্তব সেই মুহূর্তের স্বাদ আস্বাদনে। অনিন্দ্যসুন্দর এই পৃথিবীকে একদিন অনিমিখ দৃষ্টিতে চেয়ে থেকে বিদায় জানাতে হবে। মৃত্যুর যবনিকাপাতে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে নিয়ে যাবে অসীম কোন ঠিকানায়। শুধু প্রাণহীন নিথর দেহ পড়ে রইবে পরিচিত এই জগতে। নিজের চোখজোড়া বন্ধ করার অবসরটুকু দেয়া হবেনা! সেই চোখ আর উন্মীলিত হবেনা কোন প্রিয়মুখ দর্শনে। বিঘোর চিত্তে মৃত্যুদূতের বিকট চেহারা দেখে মুহূর্তেই শুকিয়ে যাবে আঁখি-লোর। এক কাৎরা পানির জন্য গোডিমসম কাতরতা জানাবে এই নশ্বর চিত্ত। জীবনের সকল অনন্দ বেদনা মিশ্রিত মণিদীপ শিখা এক থাবায় দপ করে নিভিয়ে দিতে যমদূতের নিষ্করুণ প্রাণ এতটুকুও সমীহ করবেনা। কি নির্মম হবে সেই পথচলা, কি মর্মন্তুদ হবে সেই শেষবেলা! 

এতো বাস্তব স্পর্শ সত্য জেনেও রীতিমত চলে তাকে অবহেলা করার কত আয়োজন। উন্মাদ হয়ে দিগবেদিক ছুটে চলি অবাস্তব জিয়নকাঠির সন্ধানে। কত কলাকৌশলে তথ্য উপাত্ত দিয়ে মনকে ভুলিয়ে রাখতে চাই মৃত্যু থেকে। মানুষের সব ব্যস্ততাতো চির সত্যকে অবহেলা করার ছলনা মাত্র। পৃথিবীর সব অবধারিত সত্যকে সহজেই উপেক্ষা করে চলা আমাদের নিত্যদিনের অভ্যাস, আমরা শুধু প্রগলভ হয়ে মেতে থাকি অবাস্তব কল্প কাহিনী নিয়ে। কারণ মিথ্যার রূপ অত্যান্ত মনোহর, কিন্তু স্বাদ নিতান্তই প্রাণহর। পৃথিবীর বিষাক্ত ফুলগুলো দেখতে অত্যন্ত সুন্দর বটে।

মৃত্যুর সংবাদ যেন বাসায় বাজানো নিত্যকার 'কলিং বেলের' শব্দ। মনের দরজা খুলে দেখি শুধু একবার, পরক্ষণেই আবার দরজা বন্ধ করে ভুলে যেতে চাই। একদিন হয়তো এই সংবাদের বিষয়বস্তুতে পরিণত হতে হবে নিজেকে। মৃত্যুর মিছিলের কলরব শুধু বেড়েই চলেছে দিনকেদিন। অন্যের মৃত্যু সংবাদ আমাদের যতটুকু তাড়িত করে, তার লেশমাত্রও আলোড়িত করেনা নিজেদের মৃত্যুর কথা ভেবে। তইতো সদা মিথ্যার হাতছানি দেয়া জগতের বিবশতায় খুঁজে ফিরি প্রাণের স্পন্দন। এই মায়ামোহ জগতের বিভাবরী কেটে উন্মগ্ন চিত্তে বাস্তবতার সূর্যোদয় দেখা আর হবেনা। আজকে বিছানার পাশে শায়িত মানুষটা হয়তো পরের রাত্রিতে আর পাশে শুয়ে থাকতে চাইবেনা। এক বুক মাটির নিচের বিছানা শেয়ার করার যে কোন সুযোগ নেই। এই বিছানা প্রত্যেকের একই, কিন্তু প্রত্যকের জন্য আলাদা। নিস্তব্ধ রাতের নৈঃশব্দের প্রহরীর মতো ঝি ঝি পোকারা হয়তো সঙ্গ দিবে তাদের সুরে। চাঁদনী রাতের জ্যোৎস্না সিক্ত স্নিগ্ধতা হয়তো মাটি ভেদ করে পৌঁছাবেনা সেই দুর্গম জগতে, সে জগতের আকাশে যে চাঁদ নেই, আছে শুধুই অমাবস্যার নিকষ অন্ধকার। তিলে তিলে গড়ে তোলা সুটাম সুন্দর দেহটার ভাগ কেউ নিতে চাইবে না, মাটির বুকে বাস করা কত অভুক্ত কীটের রিজিক যে লেখা আছে দেহের প্রতিটি কোষে। সেদিন মাটির ধুলায় মিশে যাবে কত দামি প্রসাধনী দিয়ে মাখানো এই শরীর। কত দামী ব্র্যান্ডের পারফিউমের সুবাস পরিণত হবে মাটির সোঁদা সোঁদা গন্ধে। কত অসমাপ্ত কাজের হিসাব মিশে থাকবে মাটির প্রতিটি কণায়। প্রতিটি ক্ষুদ্র বালিকণায় সূর্যকিরণ লেগে প্রতিফলিত হবে কত অপূর্ণ স্বপ্নের রংধনু। কত না বলা শব্দ তরঙ্গ মিলিয়ে যাবে মহাশূণ্যের স্তব্ধতায়। এক বুক মাটির নিচে চাপা পড়া যন্ত্রণার আর্তচিৎকার হয়তো মাটি ভেদ করে পৌঁছাবেনা প্রিয় মানুষের কানে। আস্তগামী সূর্যের আরক্তিম গোধূলি বেলায় কত পাখিইতো নীড়ে ফিরবে, শুধু নীড়ে ফেরা হবেনা বাঁধনহারা এই আমার। বাতায়ন খুলে নিস্তব্ধ প্রদোষে উদাস দৃষ্টিতে কোন উৎসুক চোখ চেয়ে থাকবে পরিচিত কোন মানুষের ফিরে আসার পথের পানে। সেই পরিচিত উৎসাহ মিটে গিয়ে নতুন কোন পরিচয়ে চিরকালের মত হারিয়ে যাবে মহাকালের কৃষ্ণবিবরে। মাগরিবের আজানের করুণ সূরে প্রতিনিয়ত বেজে উঠবে সেই বিদায়ের সূর। অদৃশ্য মায়াজালে নিজেকে সঁপে দিয়ে, হয়ে যাবে অদৃশ্য জগতের বাসিন্দা। হয়তো কিছু স্মৃতি নিয়ে ঠায় পাবে ক্যালেন্ডারের পাতায়। অচ্ছুৎ আত্মা নিয়ে মিশে থাকবে প্রিয় কোন মানুষের স্মৃতির মণিকোঠায়। হয়তোবা জীবনের যবনিকাপাতের সাথে সাথে কত হৃদ্য শুভাকাঙ্ক্ষীর হৃদয় আলেখ্য ক্রমশ মুছে যাবে নয়ন-লোরে। 

মখমলের চাদরে ঘেরা পেলব বিছানায় শুয়ে কখনো উপলব্ধি করা যাবেনা সে যন্ত্রণার উৎকট স্বাদ। যেদিন মখমলের পরির্বতে থাকবে শুষ্ক শক্ত মাটির বিছানা, যেদিন শতকোটি অজানা বিষাক্ত কীটপতঙ্গ অণুজীবের আহার হবে এই বিশীর্ণ দেহ, যেদিন জীবনের সব কৃতকর্মের অপরাধে লেলিহান অগ্নিশিখায় অঙ্গার হয়ে বিদীর্ণ হয়ে যাবে অস্তিত্ব, সেদিনই হয়তো তার প্রকৃত স্বাদ উপলব্ধি করা যাবে।

এই নরাধমের বিবক্ষিত হৃদয়ের এইসব ছেঁদো কথায় কখনো প্রতীতি হবেনা সেই অনন্ত বিত্রস্ত সময়ের বর্ণনা। অবশেষে শুধু সেই চির শাশ্বত বাণীই মহানাদ হয়ে শিহরন তুলে হৃদয়ে, 

"মাটি থেকেই আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, মাটিতেই আমি তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেব এবং মাটি থেকেই তোমাদেরকে পুনরায় বের করে আনব।"
সুরা ত্বহা : ৫৫

 

লেখক: মুহাম্মদ রেজাউল করিম
মার্স্টাস (জৈব রসায়ন), বি.এসসি অর্নাস (রসায়ন);
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
ইমেইল: rshakil126@gmail.com
 

Write your opinion :

Data

Thinking

শেষ ঠিকানার খোঁজে 


মুহাম্মদ রেজাউল করিম
Saturday, 27 June 2020 04:28
NewsRoom



ঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে দিনগুলো। সময় যাচ্ছে বেহিসাবি খরচায়। অনাগত ভবিষ্যতের নিশ্চিত দূর্ভাবনা গুলো বৃশ্চিক দংশন যন্ত্রণায় বিষিয়ে তুলছে হৃদয় গভীরে, বিবশ হয়ে আসছে প্রাণের স্পন্দনগতি। এই দুর্বিষহ ব্যথা ধমনি-শিরা-উপশিরা দিয়ে ছুটে চলছে প্রতিটি কোষে, আলোড়িত করছে প্রতিটি নিউরন, যেন উন্মত্ত হয়ে ছুটে পালাতে চাই এই জগতের সব বিবশতা থেকে। চার দেয়ালের ভেতরের পৃথিবীটা ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। অবরুদ্ধ ঘুমোট আবহাওয়ার সাথে একাত্বতা ঘোষণা করে হৃদয়পুরে বিরাজ করছে শুধু শ্রান্তি আর আবসাদ। নিঃশ্বাস নেয়াটাই যেন বড় দায় হয়ে ঠেকছে। নিঃশ্বাসের সাথে কতো অজানা ভয় মিশে যায় শরীরের প্রতিটি রক্ত বিন্দুতে। প্রতিটি নিঃশ্বাস যেন নিয়ে যায় মৃত্যুর আরেকটু কাছাকাছি। হতাশার অদৃশ্য সৈন্য রুধিরের বেগে পৌঁছে যায় প্রতিটি কোষে কোষে, অজানা আতঙ্কে উত্তেজিত করে তুলে প্রতিটি নিউরন। তবুও বেঁচে থাকতে হয় অলীক স্বপ্ন দেখে। শ্রাবণের ঘোর বর্ষায় দিগন্তপ্রসারী কালো মেঘের আড়ালে এক চিলতে সূর্যরশ্মি দেখার অপেক্ষায়। তীব্র বর্ষণমন্দ্ৰিত অন্ধকারের শেষে রংধনুর আবিরে হৃদয়কে রাঙানোর আশায়। তপ্ত দুপুরে উন্মুক্ত প্রান্তরে কোন এক পথহারা বিচ্ছিন্ন চিলের আওয়াজ যেমন হাহাকার তুলে চারপাশে, তেমনি হৃদয় গভীরে কিসের যেন একটা হাহাকারে গুমড়ে কেঁদে উঠতে চাই। হৃদয় গভীরের এই করুণ নিস্তব্ধতায় যেন কোন আদি অচ্ছুৎ ঠিকানার প্রতিধ্বনি বেজে ওঠে ক্ষণে ক্ষণে। 

তবুও বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের উন্মুক্ত মঞ্চে মহাসমারোহে চলছে জীবনের কত অভিনয়, কত নাটক। এই নাট্যমঞ্চে আমরা সবাই অভিনেতা, একেক মঞ্চে একেক চরিত্র মঞ্চস্থ করতেই ব্যস্ত। প্রতিটি সত্তার মাঝে চলে কত শত চরিত্রের প্রতিফলন, দোর্দণ্ডপ্রতাপে করি নিজের আত্মশ্লাঘা উদগীরণ। কখনো করি ভালোবাসার অভিনয়, কখনো প্রাণহীন প্রণয়। আমরা সবাই অভিনেতা, আমরাই আমাদের দর্শক, আমারাই আমাদের সমালোচক। একে অপরের অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়ে নিজেকে ভুলে যাই আবার কখনো অপ্রাসঙ্গিক সমালোচনা করে নিজেই সেই চরিত্র অভিনয় করে যাই। প্রাপ্তি শুধু তোষামোদের হাততালি পাওয়া, নয়তো সমালোচকের তিক্ত অশ্রাব্য ব্যঞ্জনা। কত আয়োজন করে, রং বেরংয়ের সাঁজে সাজিয়েছি আমাদের জীবনকে। জীবন বৈচিত্রের রূপ রসে প্রমত্ত হয়ে প্রতিনিয়ত মাতিয়ে রাখছি চারপাশ। দিনশেষে সবই নবডঙ্কা, নিরেট মিথ্যা। 

একমাত্র নির্মল সত্য হলো মৃত্যু। জীবনের প্রতীপে মৃত্যুই যেন চিরন্তন সত্য। এ এক অবধারিত ক্ষণ, আমরাই তার প্রহর গুনে তারই কাছে এগিয়ে যাচ্ছি নিকট থেকে সন্নিকটে। প্রতি নিঃশ্বাসের গতিতে পৌঁছে যাচ্ছি চির বাস্তব সেই মুহূর্তের স্বাদ আস্বাদনে। অনিন্দ্যসুন্দর এই পৃথিবীকে একদিন অনিমিখ দৃষ্টিতে চেয়ে থেকে বিদায় জানাতে হবে। মৃত্যুর যবনিকাপাতে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে নিয়ে যাবে অসীম কোন ঠিকানায়। শুধু প্রাণহীন নিথর দেহ পড়ে রইবে পরিচিত এই জগতে। নিজের চোখজোড়া বন্ধ করার অবসরটুকু দেয়া হবেনা! সেই চোখ আর উন্মীলিত হবেনা কোন প্রিয়মুখ দর্শনে। বিঘোর চিত্তে মৃত্যুদূতের বিকট চেহারা দেখে মুহূর্তেই শুকিয়ে যাবে আঁখি-লোর। এক কাৎরা পানির জন্য গোডিমসম কাতরতা জানাবে এই নশ্বর চিত্ত। জীবনের সকল অনন্দ বেদনা মিশ্রিত মণিদীপ শিখা এক থাবায় দপ করে নিভিয়ে দিতে যমদূতের নিষ্করুণ প্রাণ এতটুকুও সমীহ করবেনা। কি নির্মম হবে সেই পথচলা, কি মর্মন্তুদ হবে সেই শেষবেলা! 

এতো বাস্তব স্পর্শ সত্য জেনেও রীতিমত চলে তাকে অবহেলা করার কত আয়োজন। উন্মাদ হয়ে দিগবেদিক ছুটে চলি অবাস্তব জিয়নকাঠির সন্ধানে। কত কলাকৌশলে তথ্য উপাত্ত দিয়ে মনকে ভুলিয়ে রাখতে চাই মৃত্যু থেকে। মানুষের সব ব্যস্ততাতো চির সত্যকে অবহেলা করার ছলনা মাত্র। পৃথিবীর সব অবধারিত সত্যকে সহজেই উপেক্ষা করে চলা আমাদের নিত্যদিনের অভ্যাস, আমরা শুধু প্রগলভ হয়ে মেতে থাকি অবাস্তব কল্প কাহিনী নিয়ে। কারণ মিথ্যার রূপ অত্যান্ত মনোহর, কিন্তু স্বাদ নিতান্তই প্রাণহর। পৃথিবীর বিষাক্ত ফুলগুলো দেখতে অত্যন্ত সুন্দর বটে।

মৃত্যুর সংবাদ যেন বাসায় বাজানো নিত্যকার 'কলিং বেলের' শব্দ। মনের দরজা খুলে দেখি শুধু একবার, পরক্ষণেই আবার দরজা বন্ধ করে ভুলে যেতে চাই। একদিন হয়তো এই সংবাদের বিষয়বস্তুতে পরিণত হতে হবে নিজেকে। মৃত্যুর মিছিলের কলরব শুধু বেড়েই চলেছে দিনকেদিন। অন্যের মৃত্যু সংবাদ আমাদের যতটুকু তাড়িত করে, তার লেশমাত্রও আলোড়িত করেনা নিজেদের মৃত্যুর কথা ভেবে। তইতো সদা মিথ্যার হাতছানি দেয়া জগতের বিবশতায় খুঁজে ফিরি প্রাণের স্পন্দন। এই মায়ামোহ জগতের বিভাবরী কেটে উন্মগ্ন চিত্তে বাস্তবতার সূর্যোদয় দেখা আর হবেনা। আজকে বিছানার পাশে শায়িত মানুষটা হয়তো পরের রাত্রিতে আর পাশে শুয়ে থাকতে চাইবেনা। এক বুক মাটির নিচের বিছানা শেয়ার করার যে কোন সুযোগ নেই। এই বিছানা প্রত্যেকের একই, কিন্তু প্রত্যকের জন্য আলাদা। নিস্তব্ধ রাতের নৈঃশব্দের প্রহরীর মতো ঝি ঝি পোকারা হয়তো সঙ্গ দিবে তাদের সুরে। চাঁদনী রাতের জ্যোৎস্না সিক্ত স্নিগ্ধতা হয়তো মাটি ভেদ করে পৌঁছাবেনা সেই দুর্গম জগতে, সে জগতের আকাশে যে চাঁদ নেই, আছে শুধুই অমাবস্যার নিকষ অন্ধকার। তিলে তিলে গড়ে তোলা সুটাম সুন্দর দেহটার ভাগ কেউ নিতে চাইবে না, মাটির বুকে বাস করা কত অভুক্ত কীটের রিজিক যে লেখা আছে দেহের প্রতিটি কোষে। সেদিন মাটির ধুলায় মিশে যাবে কত দামি প্রসাধনী দিয়ে মাখানো এই শরীর। কত দামী ব্র্যান্ডের পারফিউমের সুবাস পরিণত হবে মাটির সোঁদা সোঁদা গন্ধে। কত অসমাপ্ত কাজের হিসাব মিশে থাকবে মাটির প্রতিটি কণায়। প্রতিটি ক্ষুদ্র বালিকণায় সূর্যকিরণ লেগে প্রতিফলিত হবে কত অপূর্ণ স্বপ্নের রংধনু। কত না বলা শব্দ তরঙ্গ মিলিয়ে যাবে মহাশূণ্যের স্তব্ধতায়। এক বুক মাটির নিচে চাপা পড়া যন্ত্রণার আর্তচিৎকার হয়তো মাটি ভেদ করে পৌঁছাবেনা প্রিয় মানুষের কানে। আস্তগামী সূর্যের আরক্তিম গোধূলি বেলায় কত পাখিইতো নীড়ে ফিরবে, শুধু নীড়ে ফেরা হবেনা বাঁধনহারা এই আমার। বাতায়ন খুলে নিস্তব্ধ প্রদোষে উদাস দৃষ্টিতে কোন উৎসুক চোখ চেয়ে থাকবে পরিচিত কোন মানুষের ফিরে আসার পথের পানে। সেই পরিচিত উৎসাহ মিটে গিয়ে নতুন কোন পরিচয়ে চিরকালের মত হারিয়ে যাবে মহাকালের কৃষ্ণবিবরে। মাগরিবের আজানের করুণ সূরে প্রতিনিয়ত বেজে উঠবে সেই বিদায়ের সূর। অদৃশ্য মায়াজালে নিজেকে সঁপে দিয়ে, হয়ে যাবে অদৃশ্য জগতের বাসিন্দা। হয়তো কিছু স্মৃতি নিয়ে ঠায় পাবে ক্যালেন্ডারের পাতায়। অচ্ছুৎ আত্মা নিয়ে মিশে থাকবে প্রিয় কোন মানুষের স্মৃতির মণিকোঠায়। হয়তোবা জীবনের যবনিকাপাতের সাথে সাথে কত হৃদ্য শুভাকাঙ্ক্ষীর হৃদয় আলেখ্য ক্রমশ মুছে যাবে নয়ন-লোরে। 

মখমলের চাদরে ঘেরা পেলব বিছানায় শুয়ে কখনো উপলব্ধি করা যাবেনা সে যন্ত্রণার উৎকট স্বাদ। যেদিন মখমলের পরির্বতে থাকবে শুষ্ক শক্ত মাটির বিছানা, যেদিন শতকোটি অজানা বিষাক্ত কীটপতঙ্গ অণুজীবের আহার হবে এই বিশীর্ণ দেহ, যেদিন জীবনের সব কৃতকর্মের অপরাধে লেলিহান অগ্নিশিখায় অঙ্গার হয়ে বিদীর্ণ হয়ে যাবে অস্তিত্ব, সেদিনই হয়তো তার প্রকৃত স্বাদ উপলব্ধি করা যাবে।

এই নরাধমের বিবক্ষিত হৃদয়ের এইসব ছেঁদো কথায় কখনো প্রতীতি হবেনা সেই অনন্ত বিত্রস্ত সময়ের বর্ণনা। অবশেষে শুধু সেই চির শাশ্বত বাণীই মহানাদ হয়ে শিহরন তুলে হৃদয়ে, 

"মাটি থেকেই আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, মাটিতেই আমি তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেব এবং মাটি থেকেই তোমাদেরকে পুনরায় বের করে আনব।"
সুরা ত্বহা : ৫৫

 

লেখক: মুহাম্মদ রেজাউল করিম
মার্স্টাস (জৈব রসায়ন), বি.এসসি অর্নাস (রসায়ন);
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
ইমেইল: rshakil126@gmail.com
 

Write your opinion :


শেষ ঠিকানার খোঁজে 

মুহাম্মদ রেজাউল করিম Saturday, 27 June 2020 04:28 NewsRoom



ঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে দিনগুলো। সময় যাচ্ছে বেহিসাবি খরচায়। অনাগত ভবিষ্যতের নিশ্চিত দূর্ভাবনা গুলো বৃশ্চিক দংশন যন্ত্রণায় বিষিয়ে তুলছে হৃদয় গভীরে, বিবশ হয়ে আসছে প্রাণের স্পন্দনগতি। এই দুর্বিষহ ব্যথা ধমনি-শিরা-উপশিরা দিয়ে ছুটে চলছে প্রতিটি কোষে, আলোড়িত করছে প্রতিটি নিউরন, যেন উন্মত্ত হয়ে ছুটে পালাতে চাই এই জগতের সব বিবশতা থেকে। চার দেয়ালের ভেতরের পৃথিবীটা ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। অবরুদ্ধ ঘুমোট আবহাওয়ার সাথে একাত্বতা ঘোষণা করে হৃদয়পুরে বিরাজ করছে শুধু শ্রান্তি আর আবসাদ। নিঃশ্বাস নেয়াটাই যেন বড় দায় হয়ে ঠেকছে। নিঃশ্বাসের সাথে কতো অজানা ভয় মিশে যায় শরীরের প্রতিটি রক্ত বিন্দুতে। প্রতিটি নিঃশ্বাস যেন নিয়ে যায় মৃত্যুর আরেকটু কাছাকাছি। হতাশার অদৃশ্য সৈন্য রুধিরের বেগে পৌঁছে যায় প্রতিটি কোষে কোষে, অজানা আতঙ্কে উত্তেজিত করে তুলে প্রতিটি নিউরন। তবুও বেঁচে থাকতে হয় অলীক স্বপ্ন দেখে। শ্রাবণের ঘোর বর্ষায় দিগন্তপ্রসারী কালো মেঘের আড়ালে এক চিলতে সূর্যরশ্মি দেখার অপেক্ষায়। তীব্র বর্ষণমন্দ্ৰিত অন্ধকারের শেষে রংধনুর আবিরে হৃদয়কে রাঙানোর আশায়। তপ্ত দুপুরে উন্মুক্ত প্রান্তরে কোন এক পথহারা বিচ্ছিন্ন চিলের আওয়াজ যেমন হাহাকার তুলে চারপাশে, তেমনি হৃদয় গভীরে কিসের যেন একটা হাহাকারে গুমড়ে কেঁদে উঠতে চাই। হৃদয় গভীরের এই করুণ নিস্তব্ধতায় যেন কোন আদি অচ্ছুৎ ঠিকানার প্রতিধ্বনি বেজে ওঠে ক্ষণে ক্ষণে। 

তবুও বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের উন্মুক্ত মঞ্চে মহাসমারোহে চলছে জীবনের কত অভিনয়, কত নাটক। এই নাট্যমঞ্চে আমরা সবাই অভিনেতা, একেক মঞ্চে একেক চরিত্র মঞ্চস্থ করতেই ব্যস্ত। প্রতিটি সত্তার মাঝে চলে কত শত চরিত্রের প্রতিফলন, দোর্দণ্ডপ্রতাপে করি নিজের আত্মশ্লাঘা উদগীরণ। কখনো করি ভালোবাসার অভিনয়, কখনো প্রাণহীন প্রণয়। আমরা সবাই অভিনেতা, আমরাই আমাদের দর্শক, আমারাই আমাদের সমালোচক। একে অপরের অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়ে নিজেকে ভুলে যাই আবার কখনো অপ্রাসঙ্গিক সমালোচনা করে নিজেই সেই চরিত্র অভিনয় করে যাই। প্রাপ্তি শুধু তোষামোদের হাততালি পাওয়া, নয়তো সমালোচকের তিক্ত অশ্রাব্য ব্যঞ্জনা। কত আয়োজন করে, রং বেরংয়ের সাঁজে সাজিয়েছি আমাদের জীবনকে। জীবন বৈচিত্রের রূপ রসে প্রমত্ত হয়ে প্রতিনিয়ত মাতিয়ে রাখছি চারপাশ। দিনশেষে সবই নবডঙ্কা, নিরেট মিথ্যা। 

একমাত্র নির্মল সত্য হলো মৃত্যু। জীবনের প্রতীপে মৃত্যুই যেন চিরন্তন সত্য। এ এক অবধারিত ক্ষণ, আমরাই তার প্রহর গুনে তারই কাছে এগিয়ে যাচ্ছি নিকট থেকে সন্নিকটে। প্রতি নিঃশ্বাসের গতিতে পৌঁছে যাচ্ছি চির বাস্তব সেই মুহূর্তের স্বাদ আস্বাদনে। অনিন্দ্যসুন্দর এই পৃথিবীকে একদিন অনিমিখ দৃষ্টিতে চেয়ে থেকে বিদায় জানাতে হবে। মৃত্যুর যবনিকাপাতে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে নিয়ে যাবে অসীম কোন ঠিকানায়। শুধু প্রাণহীন নিথর দেহ পড়ে রইবে পরিচিত এই জগতে। নিজের চোখজোড়া বন্ধ করার অবসরটুকু দেয়া হবেনা! সেই চোখ আর উন্মীলিত হবেনা কোন প্রিয়মুখ দর্শনে। বিঘোর চিত্তে মৃত্যুদূতের বিকট চেহারা দেখে মুহূর্তেই শুকিয়ে যাবে আঁখি-লোর। এক কাৎরা পানির জন্য গোডিমসম কাতরতা জানাবে এই নশ্বর চিত্ত। জীবনের সকল অনন্দ বেদনা মিশ্রিত মণিদীপ শিখা এক থাবায় দপ করে নিভিয়ে দিতে যমদূতের নিষ্করুণ প্রাণ এতটুকুও সমীহ করবেনা। কি নির্মম হবে সেই পথচলা, কি মর্মন্তুদ হবে সেই শেষবেলা! 

এতো বাস্তব স্পর্শ সত্য জেনেও রীতিমত চলে তাকে অবহেলা করার কত আয়োজন। উন্মাদ হয়ে দিগবেদিক ছুটে চলি অবাস্তব জিয়নকাঠির সন্ধানে। কত কলাকৌশলে তথ্য উপাত্ত দিয়ে মনকে ভুলিয়ে রাখতে চাই মৃত্যু থেকে। মানুষের সব ব্যস্ততাতো চির সত্যকে অবহেলা করার ছলনা মাত্র। পৃথিবীর সব অবধারিত সত্যকে সহজেই উপেক্ষা করে চলা আমাদের নিত্যদিনের অভ্যাস, আমরা শুধু প্রগলভ হয়ে মেতে থাকি অবাস্তব কল্প কাহিনী নিয়ে। কারণ মিথ্যার রূপ অত্যান্ত মনোহর, কিন্তু স্বাদ নিতান্তই প্রাণহর। পৃথিবীর বিষাক্ত ফুলগুলো দেখতে অত্যন্ত সুন্দর বটে।

মৃত্যুর সংবাদ যেন বাসায় বাজানো নিত্যকার 'কলিং বেলের' শব্দ। মনের দরজা খুলে দেখি শুধু একবার, পরক্ষণেই আবার দরজা বন্ধ করে ভুলে যেতে চাই। একদিন হয়তো এই সংবাদের বিষয়বস্তুতে পরিণত হতে হবে নিজেকে। মৃত্যুর মিছিলের কলরব শুধু বেড়েই চলেছে দিনকেদিন। অন্যের মৃত্যু সংবাদ আমাদের যতটুকু তাড়িত করে, তার লেশমাত্রও আলোড়িত করেনা নিজেদের মৃত্যুর কথা ভেবে। তইতো সদা মিথ্যার হাতছানি দেয়া জগতের বিবশতায় খুঁজে ফিরি প্রাণের স্পন্দন। এই মায়ামোহ জগতের বিভাবরী কেটে উন্মগ্ন চিত্তে বাস্তবতার সূর্যোদয় দেখা আর হবেনা। আজকে বিছানার পাশে শায়িত মানুষটা হয়তো পরের রাত্রিতে আর পাশে শুয়ে থাকতে চাইবেনা। এক বুক মাটির নিচের বিছানা শেয়ার করার যে কোন সুযোগ নেই। এই বিছানা প্রত্যেকের একই, কিন্তু প্রত্যকের জন্য আলাদা। নিস্তব্ধ রাতের নৈঃশব্দের প্রহরীর মতো ঝি ঝি পোকারা হয়তো সঙ্গ দিবে তাদের সুরে। চাঁদনী রাতের জ্যোৎস্না সিক্ত স্নিগ্ধতা হয়তো মাটি ভেদ করে পৌঁছাবেনা সেই দুর্গম জগতে, সে জগতের আকাশে যে চাঁদ নেই, আছে শুধুই অমাবস্যার নিকষ অন্ধকার। তিলে তিলে গড়ে তোলা সুটাম সুন্দর দেহটার ভাগ কেউ নিতে চাইবে না, মাটির বুকে বাস করা কত অভুক্ত কীটের রিজিক যে লেখা আছে দেহের প্রতিটি কোষে। সেদিন মাটির ধুলায় মিশে যাবে কত দামি প্রসাধনী দিয়ে মাখানো এই শরীর। কত দামী ব্র্যান্ডের পারফিউমের সুবাস পরিণত হবে মাটির সোঁদা সোঁদা গন্ধে। কত অসমাপ্ত কাজের হিসাব মিশে থাকবে মাটির প্রতিটি কণায়। প্রতিটি ক্ষুদ্র বালিকণায় সূর্যকিরণ লেগে প্রতিফলিত হবে কত অপূর্ণ স্বপ্নের রংধনু। কত না বলা শব্দ তরঙ্গ মিলিয়ে যাবে মহাশূণ্যের স্তব্ধতায়। এক বুক মাটির নিচে চাপা পড়া যন্ত্রণার আর্তচিৎকার হয়তো মাটি ভেদ করে পৌঁছাবেনা প্রিয় মানুষের কানে। আস্তগামী সূর্যের আরক্তিম গোধূলি বেলায় কত পাখিইতো নীড়ে ফিরবে, শুধু নীড়ে ফেরা হবেনা বাঁধনহারা এই আমার। বাতায়ন খুলে নিস্তব্ধ প্রদোষে উদাস দৃষ্টিতে কোন উৎসুক চোখ চেয়ে থাকবে পরিচিত কোন মানুষের ফিরে আসার পথের পানে। সেই পরিচিত উৎসাহ মিটে গিয়ে নতুন কোন পরিচয়ে চিরকালের মত হারিয়ে যাবে মহাকালের কৃষ্ণবিবরে। মাগরিবের আজানের করুণ সূরে প্রতিনিয়ত বেজে উঠবে সেই বিদায়ের সূর। অদৃশ্য মায়াজালে নিজেকে সঁপে দিয়ে, হয়ে যাবে অদৃশ্য জগতের বাসিন্দা। হয়তো কিছু স্মৃতি নিয়ে ঠায় পাবে ক্যালেন্ডারের পাতায়। অচ্ছুৎ আত্মা নিয়ে মিশে থাকবে প্রিয় কোন মানুষের স্মৃতির মণিকোঠায়। হয়তোবা জীবনের যবনিকাপাতের সাথে সাথে কত হৃদ্য শুভাকাঙ্ক্ষীর হৃদয় আলেখ্য ক্রমশ মুছে যাবে নয়ন-লোরে। 

মখমলের চাদরে ঘেরা পেলব বিছানায় শুয়ে কখনো উপলব্ধি করা যাবেনা সে যন্ত্রণার উৎকট স্বাদ। যেদিন মখমলের পরির্বতে থাকবে শুষ্ক শক্ত মাটির বিছানা, যেদিন শতকোটি অজানা বিষাক্ত কীটপতঙ্গ অণুজীবের আহার হবে এই বিশীর্ণ দেহ, যেদিন জীবনের সব কৃতকর্মের অপরাধে লেলিহান অগ্নিশিখায় অঙ্গার হয়ে বিদীর্ণ হয়ে যাবে অস্তিত্ব, সেদিনই হয়তো তার প্রকৃত স্বাদ উপলব্ধি করা যাবে।

এই নরাধমের বিবক্ষিত হৃদয়ের এইসব ছেঁদো কথায় কখনো প্রতীতি হবেনা সেই অনন্ত বিত্রস্ত সময়ের বর্ণনা। অবশেষে শুধু সেই চির শাশ্বত বাণীই মহানাদ হয়ে শিহরন তুলে হৃদয়ে, 

"মাটি থেকেই আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, মাটিতেই আমি তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেব এবং মাটি থেকেই তোমাদেরকে পুনরায় বের করে আনব।"
সুরা ত্বহা : ৫৫

 

লেখক: মুহাম্মদ রেজাউল করিম
মার্স্টাস (জৈব রসায়ন), বি.এসসি অর্নাস (রসায়ন);
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
ইমেইল: rshakil126@gmail.com
 


2020 All Rights Reserved | www.newsroombd.com.bd
+8801554927951 info@newsroom.com.bd