Bangladesh District

চাঁদপুরে এক কক্ষে তিন শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু


নিউজরুম ডেস্ক
Saturday, 31 August 2019 10:46
NewsRoom


চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় একটি মসজিদের ইমামের কক্ষে তাঁর নিজের ছেলেসহ তিন শিশু–কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলা সদরের পূর্ব কলাদী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।

মারা যাওয়া ওই তিন শিশু–কিশোর হলো, আবদুল্লাহ আল নোমান (৮), মো. ইব্রাহিম (১২) ও মো. রিফাত (১৫)। এর মধ্যে নোমান ওই মসজিদের ইমাম মো. জামাল উদ্দিনের বড় ছেলে। মো. ইব্রাহিম উপজেলার নাটশাল গ্রামের কামাল হোসেন পাটোয়ারির ছেলে। সে স্থানীয় ভাঙ্গারপাড় ইবতেদায়ি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মো. রিফাত পার্শ্ববর্তী নলুয়া গ্রামের মো. জসিম উদ্দিনের ছেলে ও একই মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এলাকাবাসী ও পরিবারগুলোর সূত্রে জানা গেছে, নোমান, ইব্রাহিম ও রিফাত একে অপরের পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ।

পুলিশ, এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব কলাদী জামে মসজিদের ওই ইমাম স্থানীয় ‘ছাত্তার মাস্টারের মোড়’ এলাকায় একটি বাসায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন। মাঝে মাঝে তিনি ওই মসজিদের পাশের একটি কক্ষেও থাকতেন। ওই মসজিদে নামাজ আদায়ের সুবাদে মাঝে মধ্যে এই তিন জনও সেখানে অবস্থান করত। আজ জুমার নামাজের আগে ইমামের ওই কক্ষে তারা তিনজন আসে। তাদের কক্ষে রেখে ইমাম জামাল উদ্দিন মসজিদে যান।

স্থানীয়রা জানান, নামাজ শেষে জামাল উদ্দিন কক্ষে গিয়ে দেখেন ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। অনেক ডাকাডাকির পরও তারা দরজা না খোলায় স্থানীয়দের বিষয়টি জানান তিনি। পরে লোকজন কক্ষটির দরজা ভেঙে দেখে খাটের ওপর ওই তিন শিশুর নিস্তেজ দেহ পড়ে আছে। পরে বিষয়টি মতলব দক্ষিণ থানায় জানানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

পূর্ব কলাদী জামে মসজিদের ইমাম মো. জামাল উদ্দিন বলেন, কী কারণে এই ঘটনা ঘটল তা তিনি বলতে পারছেন না। ঘটনাটি তদন্ত করে এর প্রকৃত রহস্য বের করার জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার আইচ বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য ওই তিন শিশুর লাশ চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে এখনো মামলা হয়নি। তবে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তিনি আরও বলেন, কী কারণে ওই তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তিন শিশুর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে তাদের মুখ থেকে লালা বের হতে দেখা গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) জিহাদুল কবির এবং চাঁদপুরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তা ও সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

/প্রথম আলো

Write your opinion :

Data

Bangladesh District

চাঁদপুরে এক কক্ষে তিন শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু


নিউজরুম ডেস্ক
Saturday, 31 August 2019 10:46
NewsRoom


চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় একটি মসজিদের ইমামের কক্ষে তাঁর নিজের ছেলেসহ তিন শিশু–কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলা সদরের পূর্ব কলাদী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।

মারা যাওয়া ওই তিন শিশু–কিশোর হলো, আবদুল্লাহ আল নোমান (৮), মো. ইব্রাহিম (১২) ও মো. রিফাত (১৫)। এর মধ্যে নোমান ওই মসজিদের ইমাম মো. জামাল উদ্দিনের বড় ছেলে। মো. ইব্রাহিম উপজেলার নাটশাল গ্রামের কামাল হোসেন পাটোয়ারির ছেলে। সে স্থানীয় ভাঙ্গারপাড় ইবতেদায়ি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মো. রিফাত পার্শ্ববর্তী নলুয়া গ্রামের মো. জসিম উদ্দিনের ছেলে ও একই মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এলাকাবাসী ও পরিবারগুলোর সূত্রে জানা গেছে, নোমান, ইব্রাহিম ও রিফাত একে অপরের পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ।

পুলিশ, এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব কলাদী জামে মসজিদের ওই ইমাম স্থানীয় ‘ছাত্তার মাস্টারের মোড়’ এলাকায় একটি বাসায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন। মাঝে মাঝে তিনি ওই মসজিদের পাশের একটি কক্ষেও থাকতেন। ওই মসজিদে নামাজ আদায়ের সুবাদে মাঝে মধ্যে এই তিন জনও সেখানে অবস্থান করত। আজ জুমার নামাজের আগে ইমামের ওই কক্ষে তারা তিনজন আসে। তাদের কক্ষে রেখে ইমাম জামাল উদ্দিন মসজিদে যান।

স্থানীয়রা জানান, নামাজ শেষে জামাল উদ্দিন কক্ষে গিয়ে দেখেন ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। অনেক ডাকাডাকির পরও তারা দরজা না খোলায় স্থানীয়দের বিষয়টি জানান তিনি। পরে লোকজন কক্ষটির দরজা ভেঙে দেখে খাটের ওপর ওই তিন শিশুর নিস্তেজ দেহ পড়ে আছে। পরে বিষয়টি মতলব দক্ষিণ থানায় জানানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

পূর্ব কলাদী জামে মসজিদের ইমাম মো. জামাল উদ্দিন বলেন, কী কারণে এই ঘটনা ঘটল তা তিনি বলতে পারছেন না। ঘটনাটি তদন্ত করে এর প্রকৃত রহস্য বের করার জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার আইচ বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য ওই তিন শিশুর লাশ চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে এখনো মামলা হয়নি। তবে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তিনি আরও বলেন, কী কারণে ওই তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তিন শিশুর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে তাদের মুখ থেকে লালা বের হতে দেখা গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) জিহাদুল কবির এবং চাঁদপুরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তা ও সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

/প্রথম আলো

Write your opinion :


চাঁদপুরে এক কক্ষে তিন শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু

নিউজরুম ডেস্ক Saturday, 31 August 2019 10:46 NewsRoom


চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় একটি মসজিদের ইমামের কক্ষে তাঁর নিজের ছেলেসহ তিন শিশু–কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলা সদরের পূর্ব কলাদী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।

মারা যাওয়া ওই তিন শিশু–কিশোর হলো, আবদুল্লাহ আল নোমান (৮), মো. ইব্রাহিম (১২) ও মো. রিফাত (১৫)। এর মধ্যে নোমান ওই মসজিদের ইমাম মো. জামাল উদ্দিনের বড় ছেলে। মো. ইব্রাহিম উপজেলার নাটশাল গ্রামের কামাল হোসেন পাটোয়ারির ছেলে। সে স্থানীয় ভাঙ্গারপাড় ইবতেদায়ি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মো. রিফাত পার্শ্ববর্তী নলুয়া গ্রামের মো. জসিম উদ্দিনের ছেলে ও একই মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এলাকাবাসী ও পরিবারগুলোর সূত্রে জানা গেছে, নোমান, ইব্রাহিম ও রিফাত একে অপরের পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ।

পুলিশ, এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব কলাদী জামে মসজিদের ওই ইমাম স্থানীয় ‘ছাত্তার মাস্টারের মোড়’ এলাকায় একটি বাসায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন। মাঝে মাঝে তিনি ওই মসজিদের পাশের একটি কক্ষেও থাকতেন। ওই মসজিদে নামাজ আদায়ের সুবাদে মাঝে মধ্যে এই তিন জনও সেখানে অবস্থান করত। আজ জুমার নামাজের আগে ইমামের ওই কক্ষে তারা তিনজন আসে। তাদের কক্ষে রেখে ইমাম জামাল উদ্দিন মসজিদে যান।

স্থানীয়রা জানান, নামাজ শেষে জামাল উদ্দিন কক্ষে গিয়ে দেখেন ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। অনেক ডাকাডাকির পরও তারা দরজা না খোলায় স্থানীয়দের বিষয়টি জানান তিনি। পরে লোকজন কক্ষটির দরজা ভেঙে দেখে খাটের ওপর ওই তিন শিশুর নিস্তেজ দেহ পড়ে আছে। পরে বিষয়টি মতলব দক্ষিণ থানায় জানানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

পূর্ব কলাদী জামে মসজিদের ইমাম মো. জামাল উদ্দিন বলেন, কী কারণে এই ঘটনা ঘটল তা তিনি বলতে পারছেন না। ঘটনাটি তদন্ত করে এর প্রকৃত রহস্য বের করার জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার আইচ বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য ওই তিন শিশুর লাশ চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে এখনো মামলা হয়নি। তবে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তিনি আরও বলেন, কী কারণে ওই তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তিন শিশুর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে তাদের মুখ থেকে লালা বের হতে দেখা গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) জিহাদুল কবির এবং চাঁদপুরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তা ও সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

/প্রথম আলো


2020 All Rights Reserved | www.newsroombd.com.bd
+8801554927951 info@newsroom.com.bd